মাইক্রোওভেনের কার্যপ্রণালী

0

হ্যালো পাঠকবর্গ কেমন আছেন সবাই? আমরা অনেকে বাসাবাড়ি তে মাইক্রোওভেন ব্যবহার করেছি বা করছি। কিন্তু কিভাবে এটা আমাদের খাবারকে তাড়াতাড়ি রান্না ও গরম করে সে সম্পর্কে জানিনা। তাই আসুন আজকে জেনে নেই কিভাবে মাইক্রোওভেন কাজ করে।

আজকে যাযা থাকছে-

ভূমিকা

ওভেনের প্রধান প্রধান অংশ

সার্কিট চিত্র

হিট কন্ট্রোল এবং টাইমারের কাজ

ওভেনের কার্যপ্রণালী ইত্যাদি ইত্যাদি

ভূমিকাঃ

বাজারে মাইক্রোওভেন এবং ইলেক্ট্রিক ওভেন দেখা যায়। ইলেক্ট্রিক ওভেনের পরেই সর্বশেষ সংযোজন মাইক্রোওভেন। ইলেক্ট্রিক ওভেনে তাপ তৈরি করার জন্য হিটিং এলিমেন্ট থাকে। আর মাইক্রোওভেনে ম্যাগনেট্রন টিউবের মাধ্যমে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি শর্ট ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ এনার্জির সাহায্যে তাপ উৎপাদন করে খাদ্যবস্তু রান্না ও গরম করা হয়।

ওভেনের প্রধান অংশঃ

  1. ম্যাগনেট্রন টিউব
  2. ব্লোয়ার মোটর
  3. স্টিরার মোটর
  4. টাইমার অ্যাসেম্বলি
  5. পাওয়ার ট্রান্সফরমার
  6. থার্মো কাট-আউট
  7. ওয়েভ গাইড
  8. কন্ট্রোল প্যানেল
  9. কুক রিলে
  10. গ্রিল হিটার
  11. ডোর সেফটি লক
  12. ওভেন উইন্ডো
  13. রোলার রিং
  14. শ্যাফট, গ্লাস ট্রে, মেটাল র‍্যাক ইত্যাদি

সার্কিট চিত্রঃ

 

ওভেনের কার্যপ্রণালীঃ

মাইক্রোওয়েভ লাইট এনার্জির রূপান্তরিত ধাপ। এই লাইট এনার্জির ফ্রিকোয়েন্সি ইনফ্রারেড লাইট বা দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কিছু কম। মাইক্রোওয়েভ এর লাইট এনার্জি পানির অণুকে ক্রমাগত সম্মুখ ও পিছন দিকে গতির মাধ্যমে অনুনাদের সৃষ্টি করে। যখন কোন খাদ্যবস্তু ওভেনে রান্না করা হয়, তখন ঐ খাদ্য দ্রব্যের পানির অংশের অণুগুলি আগের মতোই সম্মুখে ও পিছনে কম্পমান হওয়ায় তাপের উদ্ভব হয়। এই হিট এনার্জি পানির অণু থেকে খাদ্যদ্রব্যে গিয়ে তাপ প্রদান করে। খাদ্য দ্রব্যের সর্বোচ্চ উঞ্চতা, যা ওভেনে পাওয়া যায়, তা হল পানির ফুটন্ত টেম্পারেচার ১০০ ডিগ্রি। এ কারণেই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য বাদামি বর্ণ ধারণ করে না বাদামি বর্ণ ধারন করবে যখন তাপমাত্রা ১৩০ ডিগ্রির উপরে যাবে।




মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এই লাইট এনার্জি ম্যাগনেট্রন নামক টিউব দ্বারা উৎপন্ন হয়, যা খাদ্যবস্তুতে সরাসরি প্রয়োগ হয়। যেহেতু এই ওয়েভ বিশুদ্ধ লাইট এনার্জি, কাজেই একবার কোন বস্তু দ্বারা শোষিত হলে সাথে সাথে তা সম্পূর্ণ চলে যাবে। অর্থাৎ মাইক্রোওয়েভ ওভেনের লাইট এনার্জি খাদ্যবস্তুতে থাকবে না। মাইক্রোওয়েভ এনার্জির পরিমাণ ২৪৫০ মেগাহার্টজ। এই উচ্চ গতিসম্পন্ন লাইট এনার্জি অসিলেশনের কারণে খাদ্যবস্তু খুব কম সময়ে রান্না করা যায়। ওভেন চারিদিকে আবদ্ধ থাকে। ফলে রান্না করার সময় ঐ এনার্জি ওভেন থেকে বের হতে পারে না। যদি ওভেনের দরজার খোলা হয়, তবে সাথে সাথে ম্যাগনেট্রন টিউব অটোমেটিক্যালি বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই এই মাইক্রোওয়েভ আশেপাশের কোন কিছুতে সঞ্চারিত হতে পারে না।

হিট কন্ট্রোলের কার্যপ্রণালীঃ

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কুক সুইচ এর মাধ্যমে কন্ট্রোল প্যানেলে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত বা গরমের জন্য সময় ও তাপমাত্রা সেটিং করতে হয়। অতঃপর স্টার্ট এর মাধ্যমে কুকিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় ম্যাগনেট্রন টিউব থেকে লাইট এনার্জি ওয়েভ গাইড পথ দিয়ে সরাসরি কুকিং এরিয়াতে আসে। ওভেন থার্মোস্ট্যাট, থার্মো কাট-আউট ইত্যাদির মাধ্যমে ওভেনের হিট কন্ট্রোল থাকে। কুকিং প্রক্রিয়ার সময় ম্যাগনেট্রন টিউব খুবই গরম হয়। এ কারণে ম্যাগনেট্রন টিউবের হিট কন্ট্রোলের জন্য ম্যাগনেট্রন টিউবে বিশেষ ধরনের পাতলা ধাতব শিটের কুলিং ফিন থাকে। ব্লোয়ার মোটর থেকে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাস এই কুলিং ফিন এরিয়াতে এসে টিউবকে দ্রুত ঠান্ডা করে। অর্থাৎ ম্যাগনেট্রন টিউবকে অতিরিক্ত গরম হতে দেয়না। বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা মত তাপমাত্রা সেটিং করতে হয়। তার জন্য যে ধরনের খাদ্যদ্রব্য রান্না বা গরম করতে হবে, সেই বাটন টিপলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেম্পারেচার সেট হয়। আবার ম্যানুয়ালি টেম্পারেচার বাটন চাপলেও তাপমাত্রা অ্যাডজাস্ট করা যায়।

টাইমারের কাজঃ

মাইক্রোওয়েভ ওভেনে টাইমার সার্কিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যের চাহিদামত সময় অনুযায়ী কুকিং করতে হয়। সার্ভিস ম্যানুয়ালে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত ও খাদ্যদ্রব্য গরমের জন্য সময় মাত্রা দেওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী সময় সেটিং করে কুকিং কার্য সম্পন্ন করতে হয়। কুকিং এ অতিরিক্ত সময় নিলে খাদ্যদ্রব্যের কালার পরিবর্তন, পুড়ে যাওয়া, স্বাদ পরিবর্তন ইত্যাদি হতে পারে। সময় নিয়ন্ত্রনে টাইমার সুইচ কন্ট্যাট, টাইমার, মোটর/ইলেকট্রিক টাইমার, টাইমার অপারেটেড কুক ফিনিশ রিং টোন ইত্যাদি অংশ থাকে। নির্ধারিত টাইমে পৌছলে টাইমার কন্টাক্ট ওপেন হয়ে কুকিং সাইকেল বন্ধ করে দেয়।

 

আশাকরি লেখাটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন কিভাবে আমাদের ব্যবহার করা মাইক্রোওয়েভ ওভেনটি কাজ করে থাকে এবং এর অংশ কি কি আছে। এই ধরনের আরো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here