ফটো রেজিস্টর গঠন এবং কার্যপ্রণালী

0


ফটো রেজিস্টরের গঠনঃ


যে রেজিস্টরের উপর আলোক রশ্মি পতিত হলে এর রেজিস্ট্যান্সের মানের পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে ফটো রেজিস্টর বলে। ফটো রেজিস্টরকে ফটো কন্ডাক্টিভ সেলও বলা হয়। একে আবার LDR অর্থাৎ লাইট ডিপেনডেন্ট রেজিস্টরও বলা হয়। ফটো রেজিস্টর ফটো সেনসিটিভ পদার্থ, যেমন ক্যাডমিয়াম সালফাইড। ক্যাডমিয়াম সেলিনাইড এবং লেড সালফাইড ইত্যাদি দ্বারা তৈরি করা হয়।

এই সমস্ত পদার্থের উপর আলো পড়লেই এদের রেজিস্ট্যান্সের মান কমে যায়। ১০০ লুমেন/ফুট আলোর তীব্রতায় একটি ফটো সেনসিটিভ বা ফটো কন্ডাকটিভ পদার্থের রেজিস্ট্যান্স প্রায় কয়েক কিলোওহম পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। আলোক রশ্মি পতনের ফলে এদের কো-ভ্যালেন্ট বন্ড ভাঙ্গিয়া প্রচুর মুক্ত হোল এবং ইলেকট্রন জোড়ার সৃষ্টি হয় যার কারণে এদের পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায় এবং রেজিস্ট্যান্সের মান কমে যায়।




ফটো রেজিস্ট্যান্সের কার্যপ্রণালীঃ


উপরের চিত্রে একটি ফটো রেজিস্টরের গঠন ও প্রতিক দেখানো হয়েছে। সিরামিকের তৈরি পাতলা গোল পাত এর উপর রেজিস্টিভ ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ক্যাডমিয়াম সালফাইডের পাতলা স্তর আঠার সাহায্যে লাগিয়ে ফটো রেজিস্টর তৈরি করা হয়। সার্কিটে সংযোগের জন্য এর দুই পার্শ্বে দুটি ইলেকট্রোড ব্যবহার করা হয় যার অবস্থান চিত্রে দেখানো হয়েছে।

ইলেকট্রোড দুটি টিন অথবা ইন্ডিয়াম দ্বারা তৈরি করা হয়।ফটো রেজিস্টরকে সার্কিটে সংযুক্ত করা হলে আলোক বিহীন অবস্থায় এটি হাই রেজিস্ট্যান্স প্রদর্শন করে। কিন্তু যখন এর উপর আলোক রশ্মি পতিত হয় তখন

এতে ব্যবহৃত ফটো সেনসিটিভ পদার্থের কো-ভ্যালেন্ট বন্ড ভাঙ্গিয়া প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন এবং হোলের সৃষ্টি হয় যার কারণে এদের পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায় এবং রেজিস্ট্যান্সের মান কমে যায়।


ফটো রেজিস্টরের ব্যবহারঃ


ফটো রেজিস্টরের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ-

  1. আলোক নিয়ন্ত্রণ করতে লাইট ডিমারে
  2. ভলিউম কন্ট্রোলে
  3. সুইচ অন-অফ এর কাজে
  4. গণনা বা কাউন্টিং এর কাজে
  5. ভোল্টেজ রেগুলেটর হিসেবে
  6. অটোমেটিক ক্যামেরা নিয়ন্ত্রনে
  7. লাইট অ্যাক্টিভিটেড রিলে সার্কিট কন্ট্রোল সার্কিটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here