ট্রান্সফরমার সম্পর্কে বিস্তারিত

0
242

হ্যালো পাঠকবর্গ কেমন আছেন সবাই? আজকে আমরা ট্রান্সফরমার সম্পর্কে জানবো।

ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ডিভাইস যার সাহায্যে ফ্রিকুয়েন্সি এবং পাওয়ার পরিবর্তন না করে কয়েলদ্বয়ের মধ্যে কোন রূপ বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই বৈদ্যুতিক শক্তি স্থানান্তরিত করা হয়।

প্রকারভেদঃ 

(১) কার্যপ্রণালী অনুযায়ী-
(ক) স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
(খ) স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
(২) কোরের গঠন অনুযায়ী-
(ক) কোর টাইপ
(খ) শেল টাইপ
(গ) স্পাইরাল কোর টাইপ
(৩) ব্যবহার অনুযায়ী-
(ক) পাওয়ার ট্রান্সফরমার
(খ) ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার
(গ) অটো-ট্রান্সফরমার
(ঘ) ইন্সট্রুমেন্ট ট্রান্সফরমার
(ঙ) কারেন্ট ট্রান্সফরমার
(চ) পটেনশিয়াল ট্রান্সফরমার
(৪) ফেজ ট্রান্সফরমার-
(ক) সিঙ্গেল ফেজ ট্রান্সফরমার
(খ) পোলি ফেজ ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমারের মূলনীতিঃবর্তমান বিশ্বে ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে ট্রান্সফরমার এর অবদান অপরিসীম। এই ডিভাইসটি সাধারণত ভোল্টেজ স্টেপ আপ বা স্টেপ ডাউন করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে একটি সিলিকন স্টীলের তৈরি অভিন্ন কোরের দুই বাহুতে কয়েল জড়ানো হয়। এই কয়েলদ্বয় ইলেক্ট্রিক্যালি সংযুক্ত নয়।

যে কয়েলে বাহির থেকে এসি পাওয়ার সরবরাহ করা হয় তাকে প্রাইমারি ওয়্যান্ডিং এবং যে ওয়্যান্ডিং এর সাথে লোড সংযুক্ত থাকে তাকে সেকেন্ডারি ওয়্যান্ডিং বলে। প্রাইমারি ওয়্যান্ডিং এ এসি সরবরাহ প্রয়োগ করলে এতে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্সের সৃষ্টি হয়। উৎপন্ন ফ্লাক্স কোরের মাধ্যমে সেকেন্ডারিতে যায় এবং সেকেন্ডারি ওয়ান্ডিং এই ফ্লাক্সকে কর্তন করে। ফলে উক্ত কয়েলে ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন নীতি অনুযায়ী মিউচুয়াল ভোল্টেজ আবিষ্ট হয়। এই আবিষ্ট ভোল্টেজই ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ। এ ভোল্টেজ উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার অ্যাকশন বলে। ট্রান্সফরমার মূলত তিনটি কাজ করে-
১) বৈদ্যুতিক পাওয়ার সমান রাখে
২) ফ্রিকুয়েন্সি অপরিবর্তন রাখে
৩) সরবরাহ ভোল্টেজ কমায় বা বাড়ায়।

ট্রান্সফরমারের প্রধান অংশঃ

  • কোর
  • প্রাইমারি ওয়ান্ডিং
  • সেকেন্ডারি ওয়ান্ডিং
  • কনজারভেটর
  • ব্রীদার
  • ইনসুলেটর
  • ইনসুলেশন অয়েল
  • বুখলজ রিলে
  • ট্যাংক
  • বুশিং
  • ভেন্ট পাইপ
  • আর্থ-পয়েন্ট
  • ট্রান্সফরমার অয়েল
  • তাপমাত্রা পরিমাপক

একটি আদর্শ ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্যঃ
আদর্শ ট্রান্সফরমার এমন একটি ট্রান্সফরমার যার মধ্যে কোন প্রকার পাওয়ার অপচয় নেই। এতে যে দুইটি কয়েল ব্যবহৃত হয় তাদের মধ্যে কোন ওহমিক রেজিস্ট্যান্স থাকবে না।
১) ওয়ান্ডিং রেজিস্ট্যান্স নাই বা খুবই নগন্য।
২) উৎপন্ন সমস্ত ফ্লাক্সই কোরে সীমাবদ্ধ থাকে এবং উভয় ওয়ান্ডিং-এ জড়িত হয়।
৩) এতে কোন প্রকার লিকেজ ফ্লাক্স নেই।
৪) হিসটেরেসিস এবং এডি কারেন্ট লস নাই।

ট্রান্সফরমারের রেটিং কেভিএ তে লেখার কারণ
ট্রান্সফরমারের মোট লস=কোর লস+কপার লস। কোর লস নির্ভর করে ভোল্টেজের উপর এবং কপার লস নির্ভর করে কারেন্টের উপর, কিন্তু উহাদের মধ্যবর্তী ফেজ কোন এর উপর নয়। পাওয়ার ফ্যাক্টর পরিবর্তনের সাথে ট্রান্সফরমারের মোট লসের কোন সম্পর্ক নেই। এজন্য ট্রান্সফরমারের রেটিং কেভিএ তে লেখা হয়।

ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে ডিসি সাপ্লাই দিলে কি ফটবে
যদি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে ডিসি সরবরাহ দেয়া হয়। তখন প্রাইমারিতে স্থির কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার ফলে স্থির ফ্লাক্স তৈরি হয়। অর্থাৎ সেকেন্ডারিতে কোন induced emf উৎপন্ন হবে না। প্রাইমারি ওয়ান্ডিং প্রচুর পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হবে প্রাইমারির লো রেজিস্ট্যান্স এর জন্য। যার ফলে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাবে এবং কিছু সময় পর পুড়ে যাবে।

ধন্যবাদ সবাইকে ট্রান্সফরমার নিয়ে আরো কিছু থাকবে আগামীতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here