ট্রান্সফরমারের অপচয়

0

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা ট্রান্সফরমারে কি কি অপচয় হয় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।


ট্রান্সফরমারের লস সমূহের তালিকাঃ



ট্রান্সফরমারে কোন ঘুরন্ত অংশ নেই। তাই এতে ঘর্ষণ ও বাতাসের বাধাজনিত অপচয় হয় না। ট্রান্সফরমার লস বলতে নো-লোড ও ফুল-লোড অবস্থায় যে সকল লস দেখা যায় তাকে বুঝায়।

ট্রান্সফরমারের লস দুই প্রকারঃ-

  1. কোর লস বা আয়রন লস
  2. কপার লস বা I²R লস।

কোর লস বা আয়রন লস আবার দুই প্রকারঃ

  1. এডি কারেন্ট লস
  2. হিস্টেরেসিস লস।

এই কোর লসের পরিমাণ ট্রান্সফরমারের যে কোন লোডে একই থাকে। তবে প্রাইমারীতে আরোপিত ভোল্টেজের হ্রাস-বৃদ্ধির উপর এ লস যথাক্রমে কম ও বেশি হয়।

(ক) হিসটেরেসিস লসঃ

প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং এর প্রতি মুহূর্তে অল্টারনেটিং কারেন্ট পরিবর্তত হয়, ফলে কোরের চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে। এই চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তনে কিছু পরিমাণ পাওয়ার ব্যয়িত হয়। এ পাওয়ার অপচয়কেই হিস্টেরেসিস লস বলে।

ড. স্টেইনমেটজ পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, কোন চৌম্বক পদার্থের প্রতি চৌম্বকীকরণ চক্রের প্রতি ঘনফলের হিস্টেরেসিস লস নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের উপর নির্ভরশীলঃ-

  1. সর্বোচ্চ ফ্লাক্স ডেনসিটি
  2. পদার্থ বা উপাদান
  3. চৌম্বক চক্রের সংখ্যা
  4. পদার্থের ঘনফল।

একটি চৌম্বক পদার্থের হিস্টেরেসিস লুপের আয়তন উক্ত পদার্থের প্রতিষ্ঠিত সর্বোচ্চ ফ্লাক্স ডেনসিটির ১.৬ তম পাওয়ারের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।

(খ) এডি কারেন্ট লসঃ

ওয়াইন্ডিং ও কোরের সাথে পরিবর্তনশীল ফ্লাক্সের সংশ্লিষ্টতার জন্য এই লস হয়। কোরের সাথে সংশ্লিষ্ট এই ফ্লাক্সের জন্য কোরে যে ইএমএফ আবিষ্ট হয় তার ফলে কোরে একটি সার্কুলেটিং কারেন্ট সৃষ্টি হয়। এই কারেন্টকে এডি কারেন্ট বলে হয়। এডি কারেন্ট কোরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কোর রেজিস্ট্যান্স কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পাওয়ার লস ঘটায়।



এডি কারেন্ট লস কমাতে হলে এডি কারেন্টকে কম রাখতে হবে। এডি কারেন্টকে কম রাখতে আয়রন কোরকে আস্ত একটি খন্ডের পরিবর্তে পাতলা পাতলা শিট দ্বারা তৈরি করা হয় এবং প্রতিটি শিটের উভয় পাশে ভার্নিশ ইনসুলেশন দেয়া হয় যাতে এডি কারেন্ট শিটের আড়াআড়ি ভাবে প্রবাহিত হতে না পারে।

(গ) কোর লসঃ

কোর লস বা আয়রন লস হলো হিস্টেরেসিস লস এবং এডি কারেন্ট লসের যোগফল। এই লস একটি নির্দিষ্ট ট্রান্সফরমারের ন্য নির্দিষ্ট থাকে। লোডের পরিবর্তনে এর কোন পরিবর্তন হয় না। ট্রান্সফরমারের নো-লোড থেকে ফুল লোড যে কোন অবস্থায় একই থাকে।

কারণ, ট্রান্সফরমারের জন্য কোর লস মোটামুটিভাবে মিউচুয়াল ফ্লাক্সের বর্গের সমানুপাতিক হয়। এ মিউচুয়াল ফ্লাক্স কোরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর মান লোডের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। মিউচুয়াল ফ্লাক্স প্রথমায় আরোপিত সাপ্লাই ভোল্টেজের পরিমানের উপর নির্ভর করে।

অর্থাৎ আরোপিত ভোল্টেজ এর হ্রাস ও বৃদ্ধি হলে মিউচুয়াল ফ্লাক্স এর হ্রাস ও বৃদ্ধি হয়। আরোপিত ভোল্টেজ কোন পরিবর্তন না করলে মিউচুয়াল ফ্লাক্সের কোন পরিবর্তন হয় না।


কপার লস-এর ব্যাখ্যাঃ



ট্রান্সফরমারের ওয়াইন্ডিংদ্বয়ের যে ওহমিক রেজিস্ট্যান্স থাকে, তার জন্য যে লস হয় তাকে কপার লস বলে। লোড বাড়ার সাথে সাথে এই লস বাড়তে থাকে। এ লস I²R দ্ব্বারা নির্ণয় করা হয়। কয়েলে কম রেজিস্ট্যান্স যুক্ত তার ব্যবহার করে এই লস কমানো যায়। কপার লস কারেন্টের বর্গের সমানুপাতিক।




শর্ট সার্কিট টেস্ট দ্বারা এই লস নিরূপণ করা যায়। ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে উভয় ওয়াইন্ডিং এ কপার লস হয়। কাজেই সেক্ষেত্রে মোট কপার লস=I²pRp+I²sRs.

ট্রান্সফরমারের রেটেড kVA এর চেয়ে লোড কম বা বেশি হলে কপার লসও সে অনুপাতে কম বেশি না হয়ে খুব দ্রুত কমে বা বৃদ্ধি পায়। যেমন কোন ট্রান্সফরমারের রেটেড kVA তে ১০০ওয়াট কপার লস হলে ½ লোডে, ¾ লোডে ও দ্বিগুণ লোডে কপার লস হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here