টিউব লাইট সম্পর্কে বিস্তারিত

0
62

হ্যালো পাঠকবর্গ আজকে আমরা ফ্লুরেসেন্ট ল্যাম্পের গঠন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

ফ্লুরেসেন্ট ল্যাম্প বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহৃত হয় ১৯৩৮ সাল থেকে বর্তমান। সাধারণ ফিলামেন্ট টাইপ ল্যাম্পের তুলনায় এটা প্রতি ওয়াটে অধিক পরিমাণ আলো দেয় এবং বেশি দিন টেকসই হয়।

ল্যাম্পের গঠনঃ

ফ্লোরেসেন্ট শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রতিপ্রভ অর্থাৎ যা উজ্জ্বল হয়ে উঠে। এতে ৩৮ মিলিমিটার ব্যাসের একটি কাচের নল বা টিউবের মধ্যে কিছু আর্গন এবং সামান্য পরিমাণ পারদ ভরা থাকে। বাতির ওয়াট অনুযায়ী টিউবের দৈর্ঘ্য কম-বেশি হয়ে থাকে। বাজারে সাধারণত ২০ ওয়াট এবং ৪০ ওয়াট এর টিউব লাইট পাওয়া যায়। ২০ ওয়াটের টিউব লাইটের দৈর্ঘ্য ০.৬ মিটার এবং ৪০ ওয়াটের টিউব লাইটের দৈর্ঘ্য ১.২ মিটার হয়ে থাকে। টিউবের দুই প্রান্তে দুটি অ্যালুমিনিয়ামের টুপি থাকে এবং তাতে দুটো করে পিন লাগানো থাকে। ভেতরে ক্ষারধর্মী অক্সাইডের প্রলেপ দেয়া ফিলামেন্ট এর সাথে দুই দিকের ঐ পিন লাগানো থাকে। টিউবের ভেতরের দিকের দেয়ালে স্বতঃপ্রভ পাউডারের প্রলেপ দেয়া থাকে। নানা বর্ণের আলো সৃষ্টি করার জন্য নানা রকম পাউডার ব্যবহার করা হয়। যেমন- জিংক বেরিলিয়াম সিলিকেট( হলুদ রংয়ের জন), ক্যাডমিয়াম বোরেট( লাল রংয়ের জন্য), ম্যাগনেসিয়াম টাংস্টেট ( নীল রংয়ের জন্য)। 

কার্যপ্রণালীঃ 

এ ল্যাম্প জ্বালাতে প্রথমে দুই দিকে ফিলামেন্ট গরম করতে হয়। সে জন্য সুইচের মাধ্যমে সার্কিট অন করা হলে স্টার্টারের মাধ্যমে ফিলামেন্ট দুটির মাধ্যে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। তখন স্টার্টারের মাধ্যমে ফিলামেন্ট এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং ফিলামেন্ট গরম হয়ে উঠে। ফলে ফিলামেন্টের কাছাকাছি টিউবের দুই প্রান্তের গ্যাস আয়োনাইজড হয়ে প্রচুর মুক্ত ইলেক্ট্রন সৃষ্টি হয়। ক্ষণকালের মধ্যেই স্টার্টারের  ভেতরের কন্টাক্ট এর শর্ট-সার্কিট খুলে যায় এবং সাথে সাথেই টিউবের ভেতরের গ্যাসের মধ্যদিয়ে কারেন্ট প্রবাহ শুরু হয়। ফলে গ্যাস গরম হতে থাকে। টিউবের গ্যাস গরম হলে ভেতরে অতিবেগুনি রশ্মির সৃষ্টি হয়। ঐ রশ্মি ফ্লোরেসেন্ট পাউডারের সাহায্যে স্বতঃপ্রভ হয়ে বাইরে সাদা উজ্জ্বল আলো দিতে থাকে। সুইচ অন করার পর স্বাভাবিক আলো দিতে প্রায় ২/৩ সেকেন্ড সময় লাগে। গ্যাস জ্বলতে জ্বলতে যত গরম হবে তার রেজিস্ট্যান্সও তত কমে যাবে। তখন উত্তরোত্তর কারেন্টও বাড়তে থাকবে। কিন্তু চোক কয়েল তা হতে দেয় না। ল্যাম্প জ্বলাকালীন তাতে মাত্র ১১০ ভোল্ট দরকার হয়। বাকি ১২০ ভোল্ট চোক কয়েলে ড্রপ করে।
আবার চালু হবার মুহূর্তে স্টার্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন হতে গেলে যে অতিরিক্ত ভোল্টেজ (প্রায় ৪০০ ভোল্ট) দরকার হয় তাও চোক কয়েলের সাহায্যে পাওয়া যায়। ল্যাম্প যখন জ্বলতে থাকে স্টার্টারের আড়াআড়ি তখন মাত্র ১১০ ভোল্ট থাকে। সেইজন্য স্টার্টারের গঠন এমন হয় যাতে সাপ্লাই ভোল্টেজের নিচে স্টার্টার আর কাজ করতে না পারে। একটি ফ্লোরেসেন্ট ল্যাম্প ফিলামেন্ট ল্যাম্প থেকে ৪/৫ গুন বেশি আলো দেয় এবং এর বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।

এই ল্যাম্প ব্যবহারের সুবিধাঃ

১। তুলনামূলক বেশি আলো প্রদান করে।
২। এটি দিনের আলোর মত সাদা আলো দেয়।
৩। এর আলো প্রায় ছায়া মুক্ত হয়।
৪। এতে কম তাপ উৎপন্ন হয়।
৫। অন্যান্য বাতির তুওলনায় বেশি টেকশই হয়।
৬। এতে খুবই কম তাপ উৎপন্ন হয়।
৭। এর আয়ু ইনক্যানডিসেন্ট বাতির তুলনায় অনেক বেশি
৮। এতে পাওয়ার অপচয় খুবই কম হয়।

অসুবিধাঃ

১। এই বাতি কম ভোল্টেজে অন হতে পারে না।
২। বাড়তি যন্ত্রাংশ হিসেবে চোক কয়েল ও স্টার্টার প্রয়োজন হয়।
৩। প্রাথমিক খরচ বেশি হয়।
৪। জ্বলন্ত অবস্থায় ভোল্টেজ কম বাতি হলে অফ হয়ে যায়। আর আলো প্রদান করে না।
৫। তাপমাত্রা বেশি হলে বাতি নস্ট হয়ে যায়।
৬। অন্যান্য বাতির ক্ষেত্রে ভোল্টেজ কমে গেলেও অল্প আলো প্রদান করে। কিন্তু ফ্লোরেসেন্ট বাতি কোন আলো প্রদান করে না।

আজকে এই পর্যন্তই। আগামিতে আরো অন্য কোন বৈদ্যুতিক বাতির গঠন ও কার্যপ্রনালী নিয়ে আলোচনায় আসবো। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here