ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টরের ধারণা

0

ভূমিকাঃ

Introduction:


ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর কে সংক্ষেপে UJT বলা হয়। ইউনি অর্থ একক, জাংশন অর্থ সংযোগ অর্থাৎ ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর হলো যে ট্রানজিস্টরে একটি মাত্র জাংশন আছে। এটি একটি তিন টার্মিনাল বিশিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর সুইচিং ডিভাইস। একটি পি টাইপ এবং একটি এন টাইপ সেমিকন্ডাক্টর কে নিয়ে কেবল একটি PN জাংশন তৈরি করা হয় বলে একে ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর বলে। যখন UJT কে ট্রিগার করা হয় তখন এর ইমিটার কারেন্ট তীক্ষ্ণভাবে বাড়তে থাকে, তখন UJT কে শুধুমাত্র ইমিটার সাপ্লাই দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ বৈশিষ্ট্য এর জন্য UJT কে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।


ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টরের গঠনঃ


UJT তে একটি N-টাইপ সিলিকন বার এর দুই মাথায় দুটি টার্মিনাল থাকে যার একটি বেস-১ এবং অন্যটি বেস-২ বলা হয়। N-টাইপ বারের মধ্যে বেস-১ এর তুলনায় বেস-২ এর সন্নিকটে P-টাইপ মেটারিয়াল ডোপিং করে PN জাংশন তৈরি করা হয়। এই P-টাইপ মেটারিয়াল থেকে একটি টার্মিনাল বের করা হয়, একে ইমিটার বলা হয়।

P-N জাংশন বিশিষ্ট ডায়োড এর দুটি বেস টার্মিনাল থাকায় UJT কে অনেক সময় ডাবল বেস ডায়োড ও বলা হয়। এখানে P-N জাংশনটি বেস-১ টার্মিনালের নিকটবর্তী হওয়ার ফলে ইমিটার বেস-১ এর রেজিস্ট্যান্স ইমিটার বেস-২ এর রেজিস্ট্যান্সের তুলনায় কম হয়।


UJT এর কার্যপ্রণালীঃ


নিচের চিত্রে UJT এর কার্যপ্রণালী এর বেসিক চিত্র দেওয়া হলো। UJT কে স্বাভাবিক অবস্থায় বেস-২ কে বেস-১ এর সাপেক্ষে পজেটিভ রাখা হয়।

(১) ইমিটার ওপেন অবস্থায় ( When Emitter is Open): যদি সার্কিটের Vbb তে ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয় তাহলে N-টাইপ বার এর মধ্যে একটি ভোল্টেজ গার্ডিয়েন্ট তৈরি হবে। যেহেতু ইমিটার বেস-২ এর কাছাকাছি থাকে। তাই ইমিটার এবং বেস-১ এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি Vbb হাজির হবে।

P-N জাংশনে ইমিটার ও বেস-১ এর মধ্যবর্তী ভোল্টেজ V1 একটি রিভার্স বায়াস তৈরি করে এবং ইমিটার কারেন্ট কাট অফ হয়ে যায়। তবে মাইনোরিটি চার্জ ক্যারিয়ার এর জন্য বেস-২ থেকে ইমিটার এ একটি সামান্য লিকেজ কারেন্ট প্রবাহ হতে থাকবে।

(২) ইমিটারে পজিটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগ অবস্থায়ঃ যতক্ষণ ইনপুট ভোল্টেজ V1 এর চেয়ে কম থাকবে ততক্ষণই P-N জাংশন রিভার্স বায়াস হয়ে থাকবে। যদি ইমিটারে প্রদানকৃত ইনপুট ভোল্টেজ V1 এর চেয়ে বেশি হয়ে যায় তাহলে P-N জাংশন ফরোয়ার্ড বায়াস হয়ে যায়। এই অবস্থায় হোল P-টাইপ মেটেরিয়াল থেকে N-টাইপ বারে প্রবেশ করে।

এই হোল গুলো বেস-২ টার্মিনাল দ্বারা বিকর্ষিত হবে। এভাবে হোলগুলো ইমিটার থেকে এসে বেস-১ অঞ্চলে যায়। এর ফলে ইমিটার থেকে বেস-১ এর মধ্যে ইন্টারনাল ভোল্টেজ ড্রপটা কমে যাবে।

সুতরাং এখানে ইমিটার কারেন্ট বেড়ে যাবে।হোল এর পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি হবে যখন হোল সেচুরেশন হয়ে যাবে।এই সেচুরেশন বিন্দুতে ইমিটার কারেন্টকে কেবলমাত্র ইমিটার পাওয়ার সাপ্লাই দ্বারা কন্ট্রোল করা হয় এবং ডিভাইসটি অন স্টেট এ থাকে।

(৩) ইমিটারে নেগেটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগঃ UJT এর ইমিটারে নেগেটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে এর PN জাংশনে রিভার্স বাসায় এর সৃষ্টি হয় ফলে ইমিটার কারেন্ট কাট অফ হয়। এ অবস্থাকে ডিভাইসের অফ স্টেট বলে।


ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টরের ব্যবহারঃ


  1. ফেজ কন্ট্রোল সার্কিটে
  2. সুইচিং সার্কিটে
  3. পালস জেনারেশনে
  4. সাইন ওয়েভ এবং স টুথ জেনারেটরে।
  5. ভোল্টেজ এবং কারেন্ট রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে।
  6. অসিলেটর সার্কিট হিসেবে।
  7. ওভার ভোল্টেজ ডিটেক্টর হিসেবে।
  8. টাইমিং ট্রিগারিং সার্কিট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here