আপওয়ার্কে কাজ পেতে কী কী দক্ষতা চাই

0
71

প্রিয় পাঠক, বিশ্বের বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হচ্ছে আপওয়ার্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সিং কাজের বড় বাজার। বাংলাদেশ থেকেও অনেক ফ্রিল্যান্সার এই সাইটে কাজ করে নিজের ক্যারিয়ার উন্নত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ সাইট কর্তৃপক্ষ এখনকার সবচেয়ে জরুরি দক্ষতাগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

গত প্রান্তিকে এসব দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছে আপওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ। আপওয়ার্কের দক্ষতা সূচক বা আপওয়ার্ক স্কিল ইনডেক্স নামের ওই সূচকে এখনকার শ্রমবাজার, প্রযুক্তি খাতের বর্তমান চিত্র, নতুন এবং উঠতি দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

আপওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে তাদের ব্যবসা খাতে এখনো দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। নতুন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী এক দশকেও উঠতি দক্ষতাগুলোর চাহিদা থাকবে।

আপওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ক্যাসরিয়েল বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসা খাতে চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতাগুলো অর্জন করতে হবে, তা না হলে দ্রুত তাদের কর্মীবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন।

ক্যাসরিয়েল বলেন, এখনকার ব্যবসায়ীরা দক্ষতা উন্নয়নে বেশি জোর দিচ্ছেন। কর্মীবাহিনীর ওপর আজকের বিনিয়োগ আগামীকাল তাদের প্রয়োজন পড়বে। ফ্রিল্যান্সাররা জানেন দক্ষতা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে দ্রুত বর্ধনশীল ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতাগুলো বছরের হিসাব ধরলে ১৭৫ গুণ চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে ৬০০ গুণ পর্যন্ত।

দেখে নিন ২০টি দক্ষতার সেই তালিকা: 

১. হ্যাডুপ
২. ড্রপবক্স এপিআই
৩. জেনেটিক অ্যালগরিদম
৪. মাইক্রোবায়োলজি
৫. কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিক
৬. সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি প্রফেশনাল (সিআইএসএসপি)
৭. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং
৮. ইন্টারকম
৯. ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভারটাইজিং
১০. ইনভিশন
১১. এমপ্লয়ি ট্রেইনিং
১২. কিউবারনেটেস
১৩. ওঅথ
১৪. অটোডেস্ক রেভিট
১৫. অ্যাপ স্টোর অপটিমাইজেশন
১৬. অ্যাপ ইউজাবিলিটি অ্যানালাইসিস
১৭. ভুজেএস ফ্রেমওয়ার্ক
১৮. লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সলিউশন (এলএমএস) কনসাল্টিং
১৯. থ্রিডি স্ক্যানিং
২০. রিঅ্যাক্ট ডট জেএস ফ্রেমওয়ার্ক

আপওয়ার্কের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে বিগ ডেটা সলিউশন তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতার তালিকার শীর্ষে থাকা হ্যাডুপ হচ্ছে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, যা বিগ ডেটা অ্যাপ্লিকেশন বিশ্লেষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। আপওয়ার্কে পাঁচ হাজারের বেশি দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হ্যাডুপ বিষয়ে অভিজ্ঞ। এ খাতের ক্লাউডেরা ও হর্টনওয়ার্কের মতো দুটি বড় প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে এবং ডেটাব্রিক ও কনফ্লুয়েন্টের মতো ওপেন সোর্স সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন বাড়িয়েছে। মূল্যবান ডেটা বা তথ্য থেকে লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই হ্যাডুপে যাঁরা দক্ষ, তাঁদের চাহিদা বেড়েই চলেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে হ্যাডুপের বাজার বছরের হিসাবে গড়ে ২৯ শতাংশের বেশি বাড়বে। ২০২৩ সাল নাগাদ বাজার দাঁড়বে ৩ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের।

আপওয়ার্কের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অপ্রচলিত অনেক শিক্ষার অপশন এখন বেড়ে যাচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে নতুন নতুন বিষয় শিখছেন ফ্রিল্যান্সাররা। ৯৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সারের মত হচ্ছে, তাঁদের চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ডিগ্রির চেয়ে তাঁদের দক্ষতাবিষয়ক কোনো প্রতিষ্ঠান বেশি দরকারি। তবে ৭৯ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বলেছেন, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের লেখাপড়া তাঁদের বর্তমান কাজের ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। এখন তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাই এমপ্লয়ি ট্রেইনিং, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সলিউশনের মতো দক্ষতাগুলোর চাহিদা বাড়ছে। এখনকার সময়ে দিনের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা মানুষ স্মার্টফোনে কাটাচ্ছে। স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপে ৯০ শতাংশ সময় কাটাচ্ছে মানুষ। প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা মোবাইলে দ্বিগুণ জোর দিচ্ছেন। তাই অ্যাপ স্টোর অপটিমাইজেশন ও অ্যাপ ইউজাবিলিটির মতো দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। এর বাইরে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পণ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের চাহিদাও বাড়তে দেখা গেছে।

সুত্রঃ প্রথম আলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here